খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র, ১৪৩১

ঢাবির সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিকি আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাবির সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিকি আর নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবরটি নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের ছোট ভাই সাইফুল্লাহ সিদ্দিক তুহিন। তিনি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, মস্তিষ্কে স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জানাজার স্থান এখনও ঠিক করা হয়নি। আগামীকাল জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা করার পরিকল্পনা ছিলো। তবে সেখানে ঝামেলা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ বা ধানমন্ডি-৭-এ-তে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দাফনের বিষয়ে তিনি জানান, পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামীকাল আজিমপুরে বাবা-মায়ের কবরের পাশে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিককে দাফন করা হবে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিউরোসার্জন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্লাবে (রমনায়) দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ পড়ে যান। পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান। এরপর তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শুরুর পর তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন আরেফিন সিদ্দিক। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষ করে পুনরায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২০ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ১৫ জুলাই তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই সময়ে তিনি পদাধিকারবলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৪ ও ২০০৫ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া স্পেনের রাজার পক্ষ থেকে ২০১১ থেকে ২০১২ সালে নারী উন্নয়ন, নারী শিক্ষা ও সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই শিক্ষাবিদ ‘অর্ডার অব সিভিল মেরিট’-এ ভূষিত হন।

লৌহজংয়ে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
লৌহজংয়ে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবা এম. বাকার (৫৫)কে হত্যার অভিযোগে থানায় হত্যা মামলাদায়ের করা হয়েছে।

ঘটনায় নিহতের মেয়ে তৌনিক শশীনূর যুথী (২৭) বাদী হয়ে তিন জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার ( এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া এলাকায় ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন হলদিয়া ইউনিয়নেরসাতঘড়িয়া এলাকার শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ জামাল (৫৪), মো. ফয়সাল ওরফে বাবু (৪২) এবং মো. কামাল শেখ (৫৬)

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত এম. বাকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মোহরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও পরিবারসহলৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়ায় বসবাস করতেন।

তার স্ত্রী রওশন আরা (৫০) এর সঙ্গে অভিযুক্ত শেখ তোফায়েল আহাম্মেদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যেবিরোধ চলছিল।

বাদীর অভিযোগ, শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ ভয় দেখিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প কাবিননামায় স্বাক্ষর নেন এবং নানাভাবেহয়রানি করছিলেন। এরই জেরে পহেলা  এপ্রিল সকালে তৌনিক শশীনূর যুথী তার পরিবারের সদস্যরা শ্রীনগর যাওয়ার পথে অভিযুক্তরাতাদের পথরোধ করেন।

সময় শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ নিহত এম. বাকারকে গালিগালাজ করলে তার দুই মেয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপর অভিযুক্তরা বাকারকেএলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকবেলা ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ জানান, “আমরা জানতে পেরেছি দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরে এম. বাকার মাটিতে পড়ে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্নপাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গুরুত্বর আহত

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গুরুত্বর আহত

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এটিএম রুহুল আমিন (৬৫) নামে ইউনিয়ন পরিষদেরসাবেক চেয়ারম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

আহত রুহুল আমিন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের মৃত দীন মোহাম্মদের ছেলে। তিনি সিরাজদিখান সদর ইউনিয়নপরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আহতের বড় ছেলে মো. সাকলাইন বলেন, ‘আমার বাবা সিরাজদিখান সদরের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আজ দুপুরের দিকেআমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বাবা পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী মনির, মিঠুন, দুলাল মেম্বারসহ আরও থেকে জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বাবার মাথা পায়ে কুপিয়ে গুরুতরআহত করে পালিয়ে যায়।

সাকলাইন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যআজ বিকেলের দিকে ঢাকা মেডিকেলে দিকে নিয়ে আসি। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে আমার বাবাচিকিৎসাধীন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

এব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দুলাল মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এঘটনার সাথে জড়িত নই। তারা ভুলবশতআমাকে জড়িয়েছে।

সিরাজদিখানে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, টাকা-স্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

লতা মন্ডল
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সিরাজদিখানে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, টাকা-স্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে  অটোচালকের সাথে তর্কবিতর্কের জের ধরে,দূর্তগতির অটোচালকে ওভারটেক করতে না দেওয়ায় হাইএসমাইক্রোবাসের মালিক  দক্সিন আফ্রিকা প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা টাকাস্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানি, মারপিটের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িছাড়া করবেন বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেনদক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী করিম খানের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জিনিয়া প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জিনিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা সারে ১১টায় পরিবারের লোকজন নিয়ে আত্মিয়ের বাড়ি লৌহজং উপজেলায় প্রাইভেট গাড়ি হাইয়েস নিয়ে যাওয়ার সময় চন্দধূল এলাকায় একটিদূর্তগতির অটোরিক্সা/ইজিবাইক সরুরাস্তায় ওভারটেক করতে না পেরে আমাদের গাড়ি থামিয়ে খারাপ ভাষায় গালমন্দ বকাঝকা করলেগাড়িতে থাকা আমার  প্রবাসী স্বামী করিম খান,আমার ভাই মিনহাজুল ইসলাম পাপ্পু  তাদের খারাপ কথার প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যেঝগড়া বিবাদ বাধলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে মিমাংশা করে দেন। কিন্তুু কিছু দূর কুসুমপুর মাঠের সামনে আমারা যেতেই আটোচালকের লোকজন আমাদের পথরোধ করে চন্দধূল গ্রামের মোঃ রনি,জব্বর,রাসেল,সারোয়ারসহ আরোও ১০/১৫জন আমাদের গাড়ি থামিয়েআমাদের সবাইকে টেনে হিচড়ে গাড়ি থেকে বের করে এলাপাথারি মারধর করেন। এ সময়ে আমার স্বামীর পকেটে থাকা ৩৫ হাজারটাকা,আমার একভড়ি ওজনের গলার চেইন লুট করে নেয়। আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মনি আক্তার  ছয় মাসের মাসের গর্ববতী তাকে  জামাকাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানি করে পেটে কিলঘুষি লাথি মেরে গুরুত্বর  আহত করে।

দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী করিম খান বলেন আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকি।  রোজার সময় দেশে এসেছি। এলাকার অনেককেই চিনি না, আমাকেও তারা চিনেন না। সরু রাস্তা হওয়ায় আমারা আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। গাড়িতে আমাদের পরিবারের লোকজন ছিল। পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামরা করে, আমাদের মারধর করে টাকা, স্বর্ন নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট এর সঠিকবিচার চাই।

সিরাজদিখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) শাহেদ আলম মামুন বলেন, বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে।অপরদিকে তাদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। আমরা দুটিই তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে ঘটনার নেপথ্যে কারা।