জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা জুলাইকে সম্মান করেনা, এক সময়ে তারা জুলাইকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করেছিল তারাই আবার জুলাইয়ের মাস্টারমাইন্ড বলে দাবি করে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই না হলে কিসের আবার ২৬ সালে নির্বাচন? জুলাই না হলে তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ফ্যাসিবাদীদের অধীনে ২৯ সালে। ২৬ সালের নির্বাচন চাইবো, আবার জুলাই মানবো না, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব না, সম্মান দেখাব না- এটা হতে পারে না। আমরা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছি, ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে ছাড়ব, চাঁদাবাজমুক্ত করে ছাড়ব, মা-বোনদের ইজ্জত প্রতিষ্ঠা করে ছাড়ব। শিশু এবং বৃদ্ধদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ উপহার দেব।
বাংলাদেশে আর কোনো ব্যাংক ডাকাতেট অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা বলেছি আর কোনো শেয়ার মার্কেট লুট করার দুঃসাহস কেউ দেখাবে না। আমরা বলেছি আর ঘরে ঘরে চাঁদার নামে ডাকাতি করার সুযোগ দেব না। তিনি বলেন, আমরা যেদিকে আগাতে চাই, কোনো কোনো দল সামনে গিয়ে বাধা দিয়ে দেয়। আমাদের আগাতে দেয় না। তার সাক্ষী- এই ১২ তারিখের গণভোট। জুলাই সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট হবে, বলে যে গণভোট আবার কিসের? ধাক্কা খেয়ে যখন মানল তখন বলে যে না, গণভোট আলাদা হতে পারে না, হতে হবে নির্বাচনের সাথে। আমাদের দাবি ছিল গণভোটটা আগে হোক, তাহলে গণভোটটা সুন্দর হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা সুন্দর হবে। তাদের দাবি পূরণ করা হলো। তখন বলে আমরা গণভোট মানি না।
এতদিন চিল্লাপাল্লা করে এখন যখন জনগণ জবাব চাচ্ছে— আপনারা কি নতুন বাংলাদেশ চান না পুরোনো ফ্যাসিবাদী বাংলাদেশ চান? আপনাদেরকে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তখন তারা গতকাল থেকে একটু একটু বলা শুরু করেছে। আসলে এ হলো ঠেলার নাম বাবাজি। এই জাতি যারে ধাক্কা দেয় তারে ছেড়ে দেয় না। অতীতের কথা বাদই দিলাম। অতীতে কে কী করেছে- তা নিয়ে অনেকে গুপ্ত, সুপ্তসহ আরও কত কিছু যে বলে, তার কোনো সীমা নেই। যারা নিজেরাই বছরের পর বছর গুপ্ত হয়ে ছিলেন, তারাই আজ মজলুমদের নিয়ে এসব বলছেন। অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের দিকে তাকালে সেটাই ভালো হবে। অন্যের চেহারা না দেখে নিজের চেহারা দেখুন।
সেই পরিবর্তনের বাংলাদেশ আপনারা চান কিনা? আপনারা চান না? আমরা কথা দিচ্ছি। কথা যেমন জাতির সাথে আমরা ৫ আগস্টের পর রেখেছি। অতীতের কথা বাদ দিলাম, অতীতে কে কি করেছে অনেকে গুপ্ত, সুপ্ত আরো কত কিছু বলে রে ভাই, এগুলার কোনো সীমানা নাই। নিজেই যারা গুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বছরের পর বছর, যারা মজলুমদেরকে বলে এরা নাকি গুপ্ত সুপ্ত। ভাই একটু নিজের দিকে সবাই তাকালে এটাই ভালো হবে। নিজের চেহারা দেখেন, অন্যেরটা দেখে লাভ নাই রে ভাই।
তিনি বলেন, যুব সমাজ, আমরা অপমানজনক বেকার ভাতা আপনাদের হাতে তুলে দেব না, ইনশাল্লাহ। আমাদের যুব সমাজ দাবি করেছিল— উই ওয়ান্ট জাস্টিস। তারা তাদের অধিকার চেয়েছিল। সেই অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তারা স্বৈরাচারকে তাড়িয়েছে। তারা কারো কাছে মিছিল করে গিয়ে বলে নাই বেকার ভাতা চাই। যারা বেকার ভাতা দিতে চান, প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের যুব সমাজকে অপমান করতে চান। ইনশাল্লাহ আমরা যুব সমাজের হাত গড়ার সুযোগ করে দিব, আর হাতের তালুতে ইনশাল্লাহ সম্মানের রুজি তুলে দিব।
তিনি আরও বলেন, আমরা পরিবর্তনের পক্ষে প্রথম ভোট দেব গণভোটে। হ্যাঁ ভোট দিবেন। এই হ্যাঁ ভোটের নাম হচ্ছে আজাদি। না ভোট মানে গোলামি। আজাদি না গোলামি? ইনশাল্লাহ হ্যাঁ ভোটের জয় হবে ইনশাল্লাহ।
বক্তব্য শেষে ঢাকা জেলার ১১ দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
সমাবেশে ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হেসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা ১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা ২ আসনের কর্নেল (অব:) আব্দুল হক, ঢাকা ৩ শাহীনুর ইসলাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১৯ আসনের ১১ দলের এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল ও ঢাকা ২০ আসনের এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিম।
মন্তব্য করুন