ঈদযাত্রায় টোল প্লাজা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ঈদযাত্রায় টোল প্লাজা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা পদ্মা সেতুর দুইপ্রান্তে ১৫ টি টোলবুথ সচল, সেতুতে যানবাহনের নতুন গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০কিলোমিটার।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় মোট ১৫টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় ঠেকানোসহ টোল আদায় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে নেয়া হয়েছে বিশেষ বাড়তি ব্যবস্থা।
এদিকে ঈদকে সামনে রখে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুত পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঘণ্টায় ৮০কিলোমিটার বেগে যানবাহন চলার নির্দেশনা দিয়েছে সেতু বিভাগ। আর এতে করে এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না হওয়ার পাশাপাশি কোন যানবাহনকে আটকে থাকতে হবে না। একই সাথে প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দিতে এখন সময় লাগবে মাত্র প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫মিনিট।
এদিকে ঈদের আগমুহুর্তে মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা হতে পারে মহাসড়কে চলাচলের অযোগ্য ফিটনেসবিহীন কিছু দূপ্লাল্লার যানবাহন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এ ধরণের কোন যানবাহন যদি সেতুতে বা মহাসড়কে আকস্মিক বিকল হয়ে পড়ে, তখন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে পুলিশ প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলে জানা গেছে। আনফিট কোন যানবাহন এ মহাসড়কে দৃশ্যমান হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী।
জানা গেছে,ঈদের সময় যানবাহনগুলো যেন দ্রুত যেতে পারে সেজন্য পদ্মা সেতুতে গতিসীমা ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার করা হয়েছে। এতে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না হওয়ার পাশাপাশি কোন যানবাহনকে আটকে থাকবে হবে না। এ মহাসড়কে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুত পদ্মা পাড়ি দিতে পারবে।
গত ৯ মার্চ আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেতু বিভাগকে সড়ক পরিবহন ও রেল উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এ নির্দেশ দেন। এ নিয়ে গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত যানবাহনের গতিসীমাসহ অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর আগে বিগত সরকার পদ্মা সেতুতে যানবাহনের গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০কিলোমিটার বেঁধে দিয়েছিল। তখন পদ্মা পারপারে সময় লাগতো ৬ মিনিটের মতো।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় ৭টি ও জাজিরা প্রান্তে ৮টিসহ মোট ১৫টি বুথ সচল রয়েছে। এছাড়া ইটিসি পদ্ধতিতে আরো ২টি বুথ চালু থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের জন্য রেজিস্ট্রশন করা তেমন যানবাহন নেই।তাই এখনই এর সুফল পাওয়া যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত গত ৫ দিনেও পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় ঈদে ঘরমুখো যানবাহনের বাড়তি চাপ এখনো শুরু হয়নি।২০ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মাওয়া প্রান্তে ৯হাজার ৯৪টি ও জাজিরা প্রান্তে ৮হাজার ৪৯৩টি সহ মোট যানবাহন পারপার হয়েছে ১৭হাজার ৫৮৭টি।২১ মার্চ দুই প্রান্তে মোট পারাপার হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯৯ ও ২২মার্চ পারাপার হয়েছে ১৬ হাজার ৭৭৬টি যানবাহন। সাধারণত প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে দুই প্রান্ত মিলে গড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। তবে ঈদের আগ মুহুর্তে আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ থেকে যানবাহনের চাপ ব্যপকহারে বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান,মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় মোট ১৫টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দু’টি লেনে পৃথক দু’টি বুথে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বাড়তি মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় ঠেকাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আরো দু’টি লেনের ব্যবস্থা করা যাবে। একইসাথে ঈদের আগ মুহুর্তে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে তাদের দায়িত্বরত কর্মকর্তারাসহ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত টোল কালেক্টর।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী বলেন,পদ্মা সেতু হয়ে এ মহাসড়কে ঈদের চাপ এখনো শুরু হয়নি। ২৫মার্চ থেকে এ রুটে চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আনফিট যানবাহন প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান, আনফিট কোন যানবাহন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি এ মহাসড়কে। দৃশ্যমান হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন