খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র, ১৪৩১

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ঈদ, স্বস্তির ঈদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ঈদ, স্বস্তির ঈদ

রমজান মাসে ছিল না দ্রব্যমূল্যের জন্য হাহাকার, ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি, ঘরমুখো লাখো মানুষের সড়কে নিরাপদ ও স্বস্তির যাত্রা, ঈদের দিনও কেটেছে আনন্দ-উৎসবে। নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সব মিলে এবার অন্যরকম এক স্বস্তির ঈদ পার করছেন দেশবাসী।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে বেছে নেয় ছাত্র-জনতার নেতৃত্ব। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর সরকার দায়িত্ব নিয়ে ছাত্র-জনতার দাবিগুলোর বাস্তবায়ন করা শুরু করে। ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম, সব ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, সড়ক ও বাজার পরিস্থিতি মনিটর, সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, এসব উদ্যোগ জনগণকে স্বস্তির মধ্যে রেখেছে।  রমজানজুড়ে বাজার পরিস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখ করার মতো। এবারের রজমানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের মধ্যে হাহাকার ছিল না। রমজানের আগে থেকে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা, শীতের সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির সময়ে রমজান চলে আসা, অতি মুনাফার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার মতো বিষয়গুলো রমজানে স্বস্তি দিয়েছে। যদিও কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে কিছু অস্বস্তি ছিল।

এবারের ঈদে সড়ক, রেলপথ এবং নৌপথে যাত্রা পরিস্থিতি অনেক স্বস্তি ছিল। দীর্ঘ ছুটিতে পর্যায়ক্রমে মানুষের বাড়ি ফেরা, বৃষ্টি না থাকায় সড়কে যান চলাচল ঠিক থাকার মতো বিষয়গুলো ঈদযাত্রায় স্বস্তি দিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক মনিটরিং কার্যক্রম স্বস্তির মাত্রা বাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও সেনা বাহিনীর সদস্যরা সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করায় আরও স্বস্তি মিলেছে সড়কে। আর ট্রেনে ঈদযাত্রাও দীর্ঘ ছুটির কারণে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছেন। ট্রেনের সিডিউলগুলোও ঠিক ছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষ নৌপথে বাড়ি ফিরলেও তাদের তেমন বিড়ম্বনা ছিল না।

কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া রমজান এবং ঈদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। ঈদের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ছিল না। পুলিশ-র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ঈদের জামাত এবং ঈদের দিন স্বস্তি দিয়েছে।

এবার ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে প্রথমবার ঈদের বড় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির উদ্যোগে এই জামাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নামাজের পর ঈদের আনন্দ র‌্যালি এবং মেলার আয়োজন করা হয়। র‌্যালিতে সুলতানী এবং মুঘল আমলের ঐতিহ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের দিন রাজধানীবাসীর মধ্যে ছিল উল্লাস। ছিল না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। নামাজ শেষে আগারগাঁওয়ে ঈদের র‌্যালি, বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল বেশি। বিনোদনকেন্দ্রে বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেছেন। বেশিরভাগ উপদেষ্টা ঢাকায় ঈদ করেছেন। ঈদের নামাজ শেষে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এতে সাধারণ মানুষজন তাকে সমর্থন জানিয়ে তার মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ করার দাবি তোলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নানা শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, আজকের দিন আমরা প্রতিদিন স্মরণ করি। আমরা দেশে শান্তি চাই, যাতে মানুষ নিজ মনে নিজের আগ্রহে চলতে পারে। কারো ভয়ে, ভীত হয়ে তাকে চলতে না হয়। আমরা সবাই সবার মঙ্গল কামনা করি। আমরা জাতির জন্য শান্তি চাই এবং সারা পৃথিবীর জন্য শান্তি চাই।

লৌহজংয়ে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
লৌহজংয়ে মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বাবা এম. বাকার (৫৫)কে হত্যার অভিযোগে থানায় হত্যা মামলাদায়ের করা হয়েছে।

ঘটনায় নিহতের মেয়ে তৌনিক শশীনূর যুথী (২৭) বাদী হয়ে তিন জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার ( এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া এলাকায় ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন হলদিয়া ইউনিয়নেরসাতঘড়িয়া এলাকার শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ জামাল (৫৪), মো. ফয়সাল ওরফে বাবু (৪২) এবং মো. কামাল শেখ (৫৬)

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত এম. বাকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মোহরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হলেও পরিবারসহলৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়ায় বসবাস করতেন।

তার স্ত্রী রওশন আরা (৫০) এর সঙ্গে অভিযুক্ত শেখ তোফায়েল আহাম্মেদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যেবিরোধ চলছিল।

বাদীর অভিযোগ, শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ ভয় দেখিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প কাবিননামায় স্বাক্ষর নেন এবং নানাভাবেহয়রানি করছিলেন। এরই জেরে পহেলা  এপ্রিল সকালে তৌনিক শশীনূর যুথী তার পরিবারের সদস্যরা শ্রীনগর যাওয়ার পথে অভিযুক্তরাতাদের পথরোধ করেন।

সময় শেখ তোফায়েল আহাম্মেদ নিহত এম. বাকারকে গালিগালাজ করলে তার দুই মেয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপর অভিযুক্তরা বাকারকেএলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকবেলা ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন অর রশীদ জানান, “আমরা জানতে পেরেছি দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরে এম. বাকার মাটিতে পড়ে যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্নপাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গুরুত্বর আহত

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গুরুত্বর আহত

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এটিএম রুহুল আমিন (৬৫) নামে ইউনিয়ন পরিষদেরসাবেক চেয়ারম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

আহত রুহুল আমিন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রসুনিয়া গ্রামের মৃত দীন মোহাম্মদের ছেলে। তিনি সিরাজদিখান সদর ইউনিয়নপরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আহতের বড় ছেলে মো. সাকলাইন বলেন, ‘আমার বাবা সিরাজদিখান সদরের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আজ দুপুরের দিকেআমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বাবা পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী মনির, মিঠুন, দুলাল মেম্বারসহ আরও থেকে জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বাবার মাথা পায়ে কুপিয়ে গুরুতরআহত করে পালিয়ে যায়।

সাকলাইন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্যআজ বিকেলের দিকে ঢাকা মেডিকেলে দিকে নিয়ে আসি। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে আমার বাবাচিকিৎসাধীন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

এব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দুলাল মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এঘটনার সাথে জড়িত নই। তারা ভুলবশতআমাকে জড়িয়েছে।

সিরাজদিখানে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, টাকা-স্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

লতা মন্ডল
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১০ অপরাহ্ণ
সিরাজদিখানে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, টাকা-স্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানির অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে  অটোচালকের সাথে তর্কবিতর্কের জের ধরে,দূর্তগতির অটোচালকে ওভারটেক করতে না দেওয়ায় হাইএসমাইক্রোবাসের মালিক  দক্সিন আফ্রিকা প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা টাকাস্বর্ন লুট, শ্লীলতাহানি, মারপিটের অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িছাড়া করবেন বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেনদক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী করিম খানের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জিনিয়া প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জিনিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা সারে ১১টায় পরিবারের লোকজন নিয়ে আত্মিয়ের বাড়ি লৌহজং উপজেলায় প্রাইভেট গাড়ি হাইয়েস নিয়ে যাওয়ার সময় চন্দধূল এলাকায় একটিদূর্তগতির অটোরিক্সা/ইজিবাইক সরুরাস্তায় ওভারটেক করতে না পেরে আমাদের গাড়ি থামিয়ে খারাপ ভাষায় গালমন্দ বকাঝকা করলেগাড়িতে থাকা আমার  প্রবাসী স্বামী করিম খান,আমার ভাই মিনহাজুল ইসলাম পাপ্পু  তাদের খারাপ কথার প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যেঝগড়া বিবাদ বাধলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে মিমাংশা করে দেন। কিন্তুু কিছু দূর কুসুমপুর মাঠের সামনে আমারা যেতেই আটোচালকের লোকজন আমাদের পথরোধ করে চন্দধূল গ্রামের মোঃ রনি,জব্বর,রাসেল,সারোয়ারসহ আরোও ১০/১৫জন আমাদের গাড়ি থামিয়েআমাদের সবাইকে টেনে হিচড়ে গাড়ি থেকে বের করে এলাপাথারি মারধর করেন। এ সময়ে আমার স্বামীর পকেটে থাকা ৩৫ হাজারটাকা,আমার একভড়ি ওজনের গলার চেইন লুট করে নেয়। আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মনি আক্তার  ছয় মাসের মাসের গর্ববতী তাকে  জামাকাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানি করে পেটে কিলঘুষি লাথি মেরে গুরুত্বর  আহত করে।

দক্ষিন আফ্রিকা প্রবাসী করিম খান বলেন আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকি।  রোজার সময় দেশে এসেছি। এলাকার অনেককেই চিনি না, আমাকেও তারা চিনেন না। সরু রাস্তা হওয়ায় আমারা আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। গাড়িতে আমাদের পরিবারের লোকজন ছিল। পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামরা করে, আমাদের মারধর করে টাকা, স্বর্ন নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট এর সঠিকবিচার চাই।

সিরাজদিখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) শাহেদ আলম মামুন বলেন, বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে।অপরদিকে তাদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। আমরা দুটিই তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে ঘটনার নেপথ্যে কারা।