
তারা ছিলেন শিক্ষাঙ্গনের নানা অসঙ্গতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তারা।
রাজপথে গড়ে তোলেন আন্দোলন। সেই আন্দোলন দমনে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। স্বৈরাচারের লেলিয়া দেওয়া বাহিনীর গুলিতে রাজপথে রক্তের নদী বয়ে যায়। ঝরতে থাকে শত শত তরতাজা প্রাণ। এক পর্যায়ে তারা স্বৈরাচারের পতনেরই ডাক দেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলন দুর্বার করে তোলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও গদি টেকেনি স্বৈরাচারের। গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে।
সেই অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে যারা ছিলেন তাদের উদ্যোগে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের। তারুণ্যনির্ভর এ রাজনৈতিক দলের নাম দেওয়া হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি)। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফার ঘোষক মো. নাহিদ ইসলামকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আখতার হোসেনকে। এছাড়া অন্যান্য শীর্ষ নেতা হিসেবে যাদের নাম ঘোষিত হয়েছে, তারাও জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনের সামনের ভাগেই ছিলেন।
স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন
দেশের শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজে যে কোনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতিবাদীর ভূমিকায় দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অন্যদের। এদের মধ্যে আখতার-আসিফরা হাসিনার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
২০২৪ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের রায়ে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন তারা। সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, উমামা ফাতেমা, সারজিস আলম, আবু বাকের মজুমদার, মাহিন সরকার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, রিফাত রশীদ প্রমুখ।