মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তৃণমূল নেতাদের মতামত উপেক্ষা এবং জনপ্রিয় নেতাদের বহিষ্কারের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ ২২ জন নেতাকর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসূলপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পদত্যাগের বিষয়টি জানান গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহমান শফিক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের (সদর, শহর, গজারিয়া ও মীরকাদিম পৌরসভা) অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৭৪ জন একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মতামত দিলেও তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে অন্য একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে জেলা বিএনপির জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আলহাজ মুহাম্মদ মজিবুর রহমানসহ মোট ১৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দলীয় রাজনীতিতে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দলীয় সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক শিকদার ও ইঞ্জিনিয়ার মুকবুল আহমেদ রতনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এছাড়া যুবদল ও মৎস্যজীবী দলের একাধিক নেতাও পদত্যাগ করেছেন।
এ সময় আরও জানানো হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। ইতোমধ্যে গজারিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ মিয়াজি ফেসবুক লাইভে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির ১৩ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধারাবাহিক এসব বহিষ্কার ও পদত্যাগের ঘটনায় গজারিয়াসহ পুরো মুন্সিগঞ্জ জেলার বিএনপি রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।