ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের শিল্প মালিকদের বড় সমস্যা হলো ফান্ডের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। পদে পদে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। নির্ধারিত সময়ে শিল্প চালু করা যায় না, কিন্তু ঋণের সুদ ঠিকই বাড়তে থাকে।
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির আরও বলেন, চাঁদাবাজদের ফোনে ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।
আমরা এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে চাই। মাথা ঠিক হলে পায়ের পাতা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। আমরা মাথা থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করবো।
বিদেশে অর্থপাচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সবার শ্বশুরবাড়ির সম্পদ বাড়ে, এটা ইন্টারেস্টিং বিষয়। আমরা এই কালচার ভেঙে চুরমার করে দেব।
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মায়েদের সম্মান জানাতে চেয়েছি। একজন মা সন্তান গর্ভে ধারণ করেন, দুধ পান করান—এটা পুরুষরা করতে পারে না। কিন্তু একজন মায়ের ওপর আট ঘণ্টার ডিউটি চাপিয়ে দেওয়া জাস্টিস হতে পারে না। আমরা চেয়েছি, মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের সময় দিতে পারেন। এই সময়ে তাদের কর্মঘণ্টা কমবে, কিন্তু রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের কম্পেনসেট করবে। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক
শিল্পখাতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকরাই আপনার শিল্পের চাকা ঘোরায়। তাদের যদি সন্তানের মতো মনে করেন, তবে তারাও আপনাকে পিতার মর্যাদা দেবে। শ্রমিকদের ধমক না দিয়ে, তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করলে প্রতিষ্ঠানের জন্যই মঙ্গল।
তরুণদের হাতে নেতৃত্বের চাবি
নিজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে এক জায়গায় আনতে চাই। জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। আমরা ককপিটের চাবি তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে প্যাসেঞ্জার সিটে বসে জার্নি এনজয় করতে চাই।
নিজের ব্যাংকিং সেক্টরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি একজন লার্নার। দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে আপনারা (ব্যবসায়ীরা) বসে আছেন। আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বক্তব্যের শেষে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে দেশ গঠনে পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।