আপনি ফেসবুক/অ্যাপের ভেতরের ব্রাউজারে আছেন — এখানে প্রিন্ট বা ডাউনলোড কাজ নাও করতে পারে।
উপরের ⋮ বা ••• মেনু থেকে “ব্রাউজারে খুলুন” চাপুন।
Chrome-এ খুলুন
বুধবার ১৬ এপ্রিল ২০২৫৩ বৈশাখ ১৪৩২

বাজেটের আকার কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা

বাজেটের আকার কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা
বাজেটের আকার কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এটি চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে এই তুলনামূলকভাবে ছোট বাজেট প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট ব্যবস্থাপনা কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো উপস্থাপন করেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অংশ আসবে এনবিআর বহির্ভূত উৎস এবং অন্যান্য আয় থেকে। তবে পূর্ববর্তী বছরের মতো এবারও রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা।

খাত লক্ষ্যমাত্রা (কোটি টাকা)
মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৫ লাখ কোটি টাকা, এনবিআর ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ৭০ হাজার কোটি টাকা।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয়
জনগণের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ মোকাবেলায় সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন বাজেটে এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ।

এই বরাদ্দের আওতায় আসবে
বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী সহায়তা, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা, হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্য ও নগদ সহায়তা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি।

অর্থ সচিবের মতে, ‘দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করাই আগামী বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা কম খরচে বেশি সুফল নিশ্চিত করতে চাই।’

এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে ২১ লাখ ৬ হাজার ১১১ কোটি টাকা, সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা, অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

এবারের বাজেট হবে একটি অন্তর্বর্তী ও সংযত বাজেট। যেখানে বড় প্রকল্প বা মেগা উন্নয়নের পরিবর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে জনজীবনের মৌলিক চাহিদা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা।

নিয়ম ভেঙে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে অর্থ উপদেষ্টার এই বাজেট উপস্থাপন করা হবে আগামী ২ জুন সরাসরি সম্প্রচার করবেন।